বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০১:২৮ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
ইন্দুরকানিতে তুচ্ছ ঘটনায় কৃষককে ছুরিকাঘাত ভান্ডারিয়ায় পৌর বিএনপির উদ্যোগে দোয়া মোনাজাত ও ইফতার মাহফিল ভান্ডারিয়ায় জমিজমা ও বালুর ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্বে একজনকে কুপিয়ে হত্যা ভান্ডারিয়ায় বিএনপির ইফতার মাহফিল ভান্ডারিয়ায় বাজার কমিটি এবং ব্যাবসায়ীদের করনীয় কর্মশালা অনুষ্ঠিত ভান্ডারিয়ায় জেলেদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণ ভান্ডারিয়ায় সংবাদ সম্মেলনে কোটি টাকার দোকান ও জমি দখলের অভিযোগ তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ুয়া স্কুল ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ নিয়ে ধূম্রজাল, পরিবারের দাবি হত্যা পিরোজপুরে চাঁদাবাজির মামলায় জাতীয় নাগরিক কমিটির প্রতিনিধিসহ দুই জন গ্রেপ্তার ভান্ডারিয়ায় দুই কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ভান্ডারিয়ায় পালিয়ে বিয়ে করতে এসে প্রেমিকাকে নিয়ে পালালো বন্ধু! অপহরণ মামলায় দুই বন্ধু করাগারে ভান্ডারিয়ায় মানব সেবা ব্লাড ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ন্যায্য মূল্যের দোকান প্রেমে ব্যার্থ হয়ে কিটনাশক পানে কিশোরের আত্মহত্যা ভান্ডারিয়ায় এক ব্যবসায়ীকে পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা ভান্ডারিয়ায় পৌর জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিল ভান্ডারিয়ায় পুলিশের ওপেন হাউস-ডে অনুষ্ঠিত ভান্ডারিয়ায় ডাকাতিসহ হত্যা মামলায় ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড পালিয়ে গিয়ে বিয়ের ৩ মাস পর স্বামী ও শশুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা; প্রতিবাদে এলাকাবাসির মানববন্ধন নেছারাবাদে ছাত্রলীগ সমর্থক থেকে কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি, কমিটি ঘোষনার একদিনের মধ্যেই বিলুপ্তি ঘোষণা কাউখালীতে নারীদের মধ্যে হিজাব ও কুরআন মাজিদ বিতরণ
ইন্দুরকানীতে আ.লীগ নেতার উপর হামলা ও দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা দায়ের; আসামী-১৯ 

ইন্দুরকানীতে আ.লীগ নেতার উপর হামলা ও দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা দায়ের; আসামী-১৯ 

 ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার পত্তাশীতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার উপর হামলা,  যুবলীগ নেতার চায়ের দোকান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগে  বিএনপির সহযোগী সংগঠনের কয়েক জন পদধারী নেতাসহ ১৯  জনের নামে মামলা দায়ের হয়েছে।  উপজেলার পত্তাশী বাজারে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায়  সংগঠিত ঘটনা নিয়ে শনিবার (১ জুলাই) সকালে ১৯  জনকে  জ্ঞাত ও আট দশজনকে অজ্ঞাত আসামী করে  ইন্দুরকানী থানায় বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন পত্তাশী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক নাসির উদ্দিন টুকু।
এ মামলায় আসামি করা হয়েছে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব খাইরুল ইসলাম লাভলু, তার আপন ভাই উপজেলা যুব সংহতির সহ-সভাপতি খাইরুল বাসার সহ  একই পরিবারের  পাঁচ জন।  এছাড়া লাভলুর শ্বশুর স্থানীয়  ইউপি সদস্য কাওছার হোসেন,স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক হুমায়ূন শেখ, ছাত্রদলের সদস্য সচিব সাদিকুল ইসলাম, সাবেক  উপজেলা ছাত্রদল নেতা মহরাজ সহ  মামলার এজাহারে  আসামির তালিকায় দলের আরো বেশ  কয়েকজনের নাম রয়েছে।
  স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,’কর্ম সৃজন কর্মসূচির টাকা চাওয়া নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে উপজেলার পত্তাশী বাজারে  মিঠু হাওলাদার  নামে এক চা দোকানীকে রাস্তায় ফেলে প্রকাশ্যে মারধর  করার ঘটনার জের ধরে  স্থানীয় আ. লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী প্রতিবাদ করায়  উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব লাভলুর  সাথে  তাদের কথার কাটাকাটি হয়।  পরে  ইন্দুরকানী থেকে সাতটি মোটরসাইকেল  যোগে  পত্তাশী বাজারে এসে  লাভলুর নেতৃত্বে  মহড়া দেয়  তার কিছু লোকজন। এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পত্তাশী ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক আহবায়ক  মজিদ ফকিরের  চায়ের দোকানে ঢুকে তাকে মারধর করে কিছু মালামাল ভাঙচুর করে।   এছাড়া আ.লীগ নেতা আলাম ফকিরকে মারধর ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শেখকে কুপিয়ে আহত করার  ঘটনা ঘটে।  এ সময় বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তবে এ সময় লাভলু সহ তার কয়েকজন সহযোগী কিছুটা আহত হন বলে স্থানীয়রা জানান।  এদিকে  ঘটনার পর  শুক্রবার রাতে আহত আ.লীগ নেতা শহিদুল ইসলামকে  উদ্ধার করে  দলীয় নেতা কর্মীরা  পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।   এ ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করলে  খবর পেয়ে  ইন্দুরকানী  থানা পুলিশ  ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এদিকে এ ঘটনায় শনিবার দুপুরে  পত্তাশী বাজারে  আ.লীগের দলীয় কার্যালয় পরিদর্শন করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট মতিউর রহমান সহ আওয়ামী লীগের  সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।
 এ ব্যাপারে পত্তাশী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলাম ফকির বলেন, চল্লিশ দিনের কর্মসূচির কাজের টাকা নিয়ে  ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কাওসার হোসেনের সাথে কর্ম সৃজন কর্মসূচির  তালিকাভুক্ত শ্রমীক  চায়ের দোকানদার মোঃ মিঠু হাওলাদারের সাথে টাকা চাওয়া নিয়ে  কথা কাটাকাটি হলে তার জামাতা যুবদলের সদস্য সচিব লাভলুর নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক মিঠুকে প্রকাশ্যে শারীরিক নির্যাতন করে। এসময় স্থানীয় লোকজন এর প্রতিবাদ করার কারনে ক্ষিপ্ত হয় তারা। পরে  সন্ধ্যার দিকে যুবদল নেতা লাভলুর নেতৃত্বে  ইন্দুরকানী থেকে আট দশটা মোটর সাইকেল যোগে পত্তাশী বাজারে এসে মহড়া দেয়।  এসময় উপজেলা  যুব সংহতির সহ- সভাপতি খাইরুল বাশার, স্বেচ্ছা সেবক দলের আহবায়ক হুমায়ুন সহ দলবল নিয়ে আমাদের উপরে ও দলীয় কার্যালয়ে  ঢুকে  বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  ও জেলা আওয়ামীলীগ নেতা একেএমএ  আউয়ালের ছবি  ভাঙচুর সহ অফিসের মালামাল তছনছ করে ।  এছাড়া যুবলীগ নেতা মজিদ ফকিরের  দোকানে হানা দিয়ে তারা নগদ টাকা পয়সা নিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে  শনিবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে মিঠু হাওলাদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার মোবাইলের একাউন্টে ৪০ দিনের কর্মসূচির  কাজের শ্রমিক হিসেবে ১৪০০০ টাকা আসে।  আমার কোমর মেরুদন্ডে ব্যথা থাকায়  উক্ত কর্মসূচির কাজ করতে পারেনি।   এ ব্যাপারে ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কাওসার হোসেনের সাথে কথা হয়েছিল কাজ না করলেও  কোন সমস্যা নেই ।  এ টাকা দুজনে ভাগ করে নিবেন। তিনি আমাকে ৪ হাজার টাকা  দেয়ার কথা বলেন।  আর বাকি টাকা তিনি নিয়ে নেবেন। তখন  সে আমার কাছে টাকা চাইলে তাকে নগদ আট হাজার টাকা আমি দিয়ে দি। কিন্তু সে দশ হাজার টাকার দাবি করলে আমি বাকি দুই হাজার টাকা  দেয়ার জন্য কয়েক দিন সময় নিই। কিন্তু তিনি কোন ভাবে সময় দিতে রাজি না হওয়ায় একপর্যায়ে বলি বাকি টাকা আমি ইউএনও স্যারকে দিব সেখান থেকে আপনি নিয়েন। কেন এ কথা বললাম এ কারনে সে তার জামাতা যুব দলের সদস্য সচিব লাভলু মাতুব্বরকে এনে লাভলুর ছোট ভাই খায়রুল বাশার ও সাকিল সহ  কয়েকজন  শুক্রবার সন্ধ্যার আগে পত্তাশী বাজারে আমার উপরে অমানুষিক নির্যাতন চালায়। মেম্বার  কাউসার হোসেনের পায়ের কাছে মুখের ধুধু ফেলে তা চাটতে বলে এবং পা ধরে মাপ চেতে বলে।  এসময় তারা  মাটিতে ফেলে কিল ঘুসি, লাথি সহ আমার ঘারে পিঠে এবং পায়ের গোড়ালিতে আঘাত করে ফুলা যখম করে এবং আমাকে ঘাড় ধরে শূন্যের উপরে  তুলে আছার মারার চেষ্টা করে। আমি অসহায় হতদরিদ্র একজন মানুষ আমি এর সঠিক বিচার চাই।
 প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শান্তি জোমাদ্দার জানান,  চায়ের দোকানদার মিঠুকে সবার সামনে শারীরিক নির্যাতন করার প্রতিবাদ করার কারণে  ইন্দুরকানী থেকে এসে আমাদের দলীয় নেতা কর্মীদের উপর হামলা চালায়  যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা কর্মীরা। তাদের হামলায় আমাদের ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শেখকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।
এরপর তারা বাজারের ভিতরে আমাদের  ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের  দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর চালায়।  তখন আমি সহ আর একজন অফিস থেকে ভয়ে বের হয়ে যাই।  লাভলু একজন বেপরোয়া প্রকৃতির লোক তার কর্মকান্ড সম্পর্কে এ উপজেলার অনেকেই জানেন।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক পত্তাশী ইউপি চেয়ারম্যান হাওলাদার মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, পত্তাশী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের অফিস ভাংচুর ও আওয়ামীলীগ নেতা শহিদুল ইসলাম শেখকে আহত করার ঘটনায় জড়িত সকলের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি চাই।
 উক্ত অভিযোগের বিষয়ে  উপজেলা জাতীয় পার্টি যুব সংহতির সহ-সভাপতি খাইরুল বাসার মাতুব্বর সাংবাদিকদের জানান,  অন্য এক ব্যক্তির সাথে টাকার ফাইল নিয়ে আমাদের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি হয়েছে।  এটা কোন রাজনৈতিক  ইস্যু না।  আর স্থানীয় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। এটা তাদের সাজানো নাটক বলে তিনি দাবি করেন।
উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সাদিকুল ইসলাম জানান,  আমি আদৌ এই ঘটনা জানিই না।  আমি মুলত ঐদিন  পরিবারের সাথে  সময় কাটাতে বাসায় ছিলাম। পত্তাশীতে আমি যাইনি।  তাছাড়া  যাদের মধ্যে এ  ঘটনা ঘটেছে এদের সাথে আমার ঐরকম চলাফেরাও নেই। কিন্তু আজকে শুনি  মারামারির ঘটনায় আমাকে আসামি করা হয়েছে।
 উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব খায়রুল ইসলাম লাভলু বলেন,  আমরা কারো উপরে কোন হামলা কিংবা ভাঙচুর করিনি। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। উল্টো আমাদেরকে ধাওয়া করলে আমরা একটি দোকানে আশ্রয় নিই।
ইন্দুরকানী থানার ওসি মো: এনামুল হক জানান,  পত্তাশীর ঘটনায় আমরা খবর পেয়ে সাথে সাথে পুলিশ পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় নাসির উদ্দিন টুকু নামে স্থানীয় এক আ.লীগ নেতা বাদী হয়ে  ১৯ জনকে  জ্ঞাত এবং ৮-১০ জনকে অজ্ঞতা আসামী করে  শনিবার Sইন্দুরকানী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 pirojpursomoy.com
Design By Rana
error: Content is protected !!